ছিনু মোরা দুই জন বেঁধে কুঁড়ে ঘর!
ছিলনা ভাবনা লেশ, ছিলনা যাতনা ক্লেশ,
ছিলনা মোদের আর সাথের দোসর!
কুটির প্রাঙ্গন চুমি,—নেচে গেয়ে তরঙ্গিণী
আনন্দে বহিয়া যেত তর্ তর্ তর্!
আকাশের চন্দ্র তারা, বর্ষিত অমিয়-ধারা
বিহগ শুনাত কত সুমধুর স্বর!
চারিদিকে পুষ্পরাশি, ফুটিত ঝরিত হাসি,
গাঁথিতাম ব’সে ব’সে মালা মনোহর!
একদা কুটির পাশে, ডাকিল অতিথি এসে
বিস্মিত হইনু আমি শুনে সেই স্বর!
আনন্দে ভরিল প্রাণ ভুলে গেনু ধন মান,
রাখিনু যতনে তারে প্রাণের ভিতর!
না জানি কি মন্ত্র বলে, এ প্রাণের অন্তস্তলে
সৃজিল সে স্বপ্নরাজ্য স্নেহের নির্ঝর!
সহসা ঝটিকা এল, অতিথি চলিয়া গেল,
ভেঙ্গে দিল চির তরে সেই কুঁড়ে ঘর!
মূর্চ্ছিয়া পরিনু ভূমে,—চেতনা লভিয়া ঘুমে
চাহিয়া দেখিনু শুধু আঁধারের স্তর!
নাই সেই কুঁড়ে খানি, চারিদিকে মরুভূমি
স্বনিয়া স্বনিয়া বায়ু বহে শর্ শর্
কোথায় অতিথি সেই প্রাণের দোসর?





