Skip to main content

The Poetic Land

TYPE AT LEAST 3 CHARACTERS TO SEARCH...

জীবন-বিনিময়

বাদশা বাবর কাঁদিয়া ফিরিছে, নিদ্ নাহি চোখে তার—
পুত্র তাহার হুমায়ুন বুঝি বাঁচে না এবার আর!
চারিধারে তার ঘনায়ে আসিছে মরণ অন্ধকার।

রাজ্যের যতো বিজ্ঞ হেকিম-কবিরাজ-দরবেশ
এসেছে সবাই, দিতেছে বসিয়া ব্যবস্থা সবিশেষ,
সেবা-যত্নের বিধি-বিধানের ত্রুটি নাহি এক লেশ!

তবু তার সেই দুরন্ত রোগ হটিতেছে নাকো হায়;
যতো দিন যায় দুর্ভোগ তার ততোই বাড়িয়া যায়—
জীবন-প্রদীপ নিভিয়া আসিছে অস্ত রবির প্রায়।

শুধালো বাবর ব্যগ্রকণ্ঠে ভিষকবৃন্দে ডাকি—
“বলো বলো আজি সত্য করিয়া, দিও নাকো মোরে ফাঁকি,
এই রোগ হতে বাদশাজাদার মুক্তি মিলিবে না কি?”

নত মস্তকে রহিল সবাই, কহিল না কোনো কথা,
মুখর হইয়া উঠিল তাদের সে নিঠুর নীরবতা
শেল সম আসি বাবরের বুকে বিঁধিল কিসের ব্যথা!

হেন কালে এক দরবেশ উঠি কহিলেন—“সুলতান,
সবচেয়ে তব শ্রেষ্ঠ যে ধন দিতে যদি পারো দান,
খুশি হয়ে তবে বাঁচাবে আল্লা বাদশাজাদার প্রাণ।”

শুনিয়া সে কথা কহিল বাবর শঙ্কা নাহিকো মানি—
“তাই যদি হয়, প্রস্তুত আমি দিতে সেই কোরবাণী,
সবচেয়ে মোর শ্রেষ্ঠ যে-ধন জানি তাহা আমি জানি।”

এতেক বলিয়া আসন পাতিয়া নিরিবিলি গৃহতল
গভীর ধেয়ানে বসিল বাবর—শান্ত অচঞ্চল,
প্রার্থনা-রত হাত দুটি তার, নয়নে অশ্রুজল।

কহিল কাঁদিয়া—“হে দয়াল খোদা, হে রহিম-রহমান,
মোর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আমারি আপন প্রাণ,
তাই নিয়ে প্রভু পুত্রের প্রাণ করো মোরে প্রতিদান।”

স্তব্ধ-নীরব সারা গৃহতল, মুখে নাহি কারো বাণী,
গভীর রজনী, সুপ্তি-মগন নিখিল বিশ্ব-রাণী;
আকাশে-বাতাসে ধ্বনিতেছে যেন গোপন কি কানাকানি!

সহসা বাবর ফুকারি উঠিল—“নাহি ভয়, নাহি ভয়,
প্রার্থনা মোর কবুল করেছে আল্লা সে দয়াময়,
পুত্র আমার বাঁচিয়া উঠিবে—মরিবে না নিশ্চয়।”

ঘুরিতে লাগিল পুলকে বাবর পুত্রের চারিপাশ—
নিরাশ হৃদয়ে সে যেন আশার দৃপ্ত জয়োল্লাস,—
তিমির রাতের তোরণে তোরণে উষার পূর্বাভাস!

সেই দিন হতে রোগ-লক্ষণ দেখা দিল বাবরের,
হৃষ্ট-চিত্তে গ্রহণ করিল শয্যা সে মরণের,—
নূতন জীবনে হুমায়ুন ধীরে বাঁচিয়া উঠিল ফের।

মরিল বাবর—না, না, ভুল কথা, মৃত্যু কে তারে কয়?
মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোনো ক্ষয়,—
পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরণের পরাজয়!

উৎস: কাব্য-কাহিনী (১৯৩২) — পাঠটি দুটি স্বাধীন উৎসে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রথম প্রকাশ: ১৯৩২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *