Skip to main content

The Poetic Land

TYPE AT LEAST 3 CHARACTERS TO SEARCH...

রানার

রানার ছুটেছে তাই ঝুম ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে
রানার চলেছে খবরের বোঝা হাতে,
রানার চলেছে রানার!
রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার
দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-
কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।

রানার! রানার!
জানা অজানার
বোঝা আজ তার কাঁধে,
বোঝাই জাহাজ রানার চ’লেছে চিঠি আর সংবাদে;
রানার চ’লেছে, বুঝি ভোর হয় হয়,
আরো জোরে, আরো জোরে, এ রানার দুর্বার দুর্জয়।
তার জীবনের স্বপ্নের মতো পিছে সরে যায় বন,
আরো পথ, আরো পথ—বুঝি হয় লাল ও পূর্ব কোণ।
অবাক রাতের তারারা, আকাশে মিটমিট ক’রে চায়

কেমন করে এ রানার সবেগে হরিণের মতো যায়।
কত গ্রাম, কত পথ যায় স’রে স’রে—
শহরে রানার যাবেই পৌছে ভোরে;
হাতে লণ্ঠন করে ঠঠন, জোনাকিরা দেয় আলো
মাভৈঃ, রানার, এখনো রাতের কালো।

এমনি ক’রেই জীবনের বহু বছরকে পিছে ফেলে,
পৃথিবীর বোঝা ক্ষুধিত রানার পৌছে দিয়েছে ‘মেলে’
ক্লান্তশ্বাস ছুয়েছে আকাশ মাটী ভিজে গেছে ঘামে
জীবনের সব রাত্রিকে ওরা কিনেছে অল্প দামে।

অনেক দুঃখে, বহু বেদনায় অভিমানে অনুরাগে,
ঘরে তার প্রিয়া একা শয্যায় বিনিদ্র রাত জাগে।

রানার! রানার!
এ বোঝা টানার দিন কবে শেষ হবে?
রাত শেষ হ’য়ে সূর্য উঠবে কবে?
ঘরেতে অভাব; পৃথিবীটা তাই মনে হয় কালো ধোঁয়া,
পিঠেতে টাকার বোঝা, তবু এই টাকাকে যাবে না ছোঁয়া,
রাত নির্জন, পথে কত ভয়, তবুও রানার ছোটে,
দস্যুর ভয়, তারো চেয়ে ভয় কখন সূর্য ওঠে
কত চিঠি লেখে লোকে—
কত সুখে, প্রেমে, আবেগে, স্মৃতিতে, কতো দুঃখে ও শোকে
এর দুঃখের চিঠি প’ড়বে না জানি কেউ কোনো দিনও,
এর জীবনের দুঃখ কেবল জানবে পথের তৃণ,
এর দুঃখের কথা জানবে না কেউ শহরে ও গ্রামে,
এর কথা ঢাকা পড়ে থাকবেই কালো রাত্রির খামে।
দরদে তারার চোখ কাঁপে মিটিমিটি,
এ-কে যে ভোরের আকাশ পাঠাবে সহানুভূতির চিঠি—
রানার! রানার! কি হবে এ বোঝা ব’য়ে?
কি হবে ক্ষুধার ক্লান্তিতে ক্ষ’য়ে ক্ষ’য়ে?
রানার! রানার! ভোর তো হ’য়েছে—আকাশ হ’য়েছে লাল,
আলোর স্পর্শে কবে কেটে যাবে এই দুঃখের কাল?
রানার। গ্রামের রানার!
সময় হয়েছে নতুন খবর আনার;
শপথের চিঠি নিয়ে চলো আজ
ভীরুতা পিছনে ফেলে—
পৌঁছে দাও এ নতুন খবর
অগ্রগতির ‘মেলে’,

দেখা দেবে বুঝি প্রভাত এখুনি,
নেই, দেরী নেই আর,
ছুটে চলল, ছুটে চলল, আরো বেগে
দুর্দম হে রানার।

উৎস: ছাড়পত্র (প্রথম প্রকাশ আষাঢ় ১৩৫৪ / ১৯৪৭; পাঠ: সারস্বত লাইব্রেরী, পুনর্মুদ্রণ জ্যৈষ্ঠ ১৩৬২) (১৯৪৭) — পাঠটি দুটি স্বাধীন উৎসে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রথম প্রকাশ: ১৯৪৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের আরও লেখা

সুকান্ত ভট্টাচার্য — লেখকের পাতা →