অংশবিশেষ · বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)
“তুমি আমার একমাত্র পুত্র। এই অতুল বিভব, সুবিস্তৃত রাজ্য এবং অসংখ্য সৈন্যসামন্ত সকলই তোমার। দামেস্করাজমুকুট অচিরে তোমারই শিরে শোভা পাইবে। তুমি এই রাজ্যের কোটি কোটি প্রজার অধীশ্বর হইয়া তাহাদিগকে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রতিপালন এবং জাতীয় ধর্ম্মের উৎকর্ষ সাধন করিয়া সর্ব্বত্র পূজিত এবং সকলের আদৃত হইবে। বল ত, তোমার কিসের অভাব? কি মনস্তাপ? আমি ভাবিয়া কিছুই স্থির করিতে পারিতেছি না। তুমি সর্ব্বদাই মলিনভাবে বিষাদিত চিত্তে বিকৃতমনার ন্যায় অযথা চিন্তায় অযথা স্থানে ভ্রমণ করিয়া দিন দিন ক্ষীণ ও মলিন হইতেছ। সময়ে সময়ে যেন একেবারে বিষাদ-সিন্ধুতে নিমগ্ন হইয়া জগতের সমুদয় আশায় জলাঞ্জলি দিয়া আত্মবিনাশে প্রস্তুত হইতেছ—ইহারই বা কারণ কি? আমি পিতা, আমার নিকট কিছুই গোপন করিও না। মনের কথা অকপটে প্রকাশ কর। যদি অর্থের আবশ্যক হইয়া থাকে, ধনভাণ্ডার কাহার জন্য? যদি রাজসিংহাসনে উপবেশন করিয়া রাজ্যভার স্বহস্তে গ্রহণ করিবার বাসনা হইয়া থাকে—বল, আমি এই মুহূর্তে তোমাকে মহামূল্য রাজবেশে সুসজ্জিত করাইয়া রাজমুকুট তোমার শিরে অর্পণ করাইতেছি—এখনই তোমাকে সিংহাসনে উপবেশন করাইতেছি। আমি স্বচক্ষে তোমাকে রাজকার্য্যে নিয়োজিত দেখিয়া নশ্বর বিশ্ব-সংসার পরিত্যাগ করিতে পারিলে তাহা অপেক্ষা ঐহিকের সুখ আর কি আছে? তুমি আমার একমাত্র পুত্ররত্ন। অধিক আর কি বলিব—তুমি আমার অন্ধের যষ্টি, নয়নের পুত্তলী, মস্তকের অমূল্য মণি, হৃদয়ভাণ্ডারের মহামূল্য রত্ন, জীবনের জীবনী-শক্তি, আশা-তরু অসময়ে মঞ্জুরিত, আশা-মুকুল অসময়ে মুকুলিত, আশা-কুসুম অসময়ে প্রস্ফুটিত। বাছা, সদা-সর্ব্বদাই তোমার মলিন মুখ ও বিমর্ষ ভাব দেখিয়া আমি একেবারে হতাশ হইয়াছি, জীবনের আশা পরিত্যাগ করিয়াছি। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন, মনের কথা অকপটে আমার নিকট প্রকাশ কর।”
Bengali · বাংলা
Related stories
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি – জীবনানন্দ দাশBengali Classicsজীবনানন্দ দাশ
তোমারি – রজনীকান্ত সেনBengali Classicsরজনীকান্ত সেন
কাচের শিশি ও মে’টে সরা – রজনীকান্ত সেনBengali Classicsরজনীকান্ত সেন
১৪০০ সাল – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরBengali Classicsরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আবদুল্লাহ্: পঞ্চম পরিচ্ছেদ – কাজী ইমদাদুল হকBengali Classicsকাজী ইমদাদুল হক
বাঘের রাঁধুনি – উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীBengali Classicsউপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী





