Skip to main content

The Poetic Land

TYPE AT LEAST 3 CHARACTERS TO SEARCH...
← বাংলা ক্লাসিকউপন্যাসের অংশ

বিষাদ-সিন্ধু: মহরম পর্ব, প্রথম প্রবাহ (অংশ) — পুত্রের প্রতি মাবিয়া

অংশবিশেষ · বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)

“তুমি আমার একমাত্র পুত্র। এই অতুল বিভব, সুবিস্তৃত রাজ্য এবং অসংখ্য সৈন্যসামন্ত সকলই তোমার। দামেস্করাজমুকুট অচিরে তোমারই শিরে শোভা পাইবে। তুমি এই রাজ্যের কোটি কোটি প্রজার অধীশ্বর হইয়া তাহাদিগকে রক্ষণাবেক্ষণ, প্রতিপালন এবং জাতীয় ধর্ম্মের উৎকর্ষ সাধন করিয়া সর্ব্বত্র পূজিত এবং সকলের আদৃত হইবে। বল ত, তোমার কিসের অভাব? কি মনস্তাপ? আমি ভাবিয়া কিছুই স্থির করিতে পারিতেছি না। তুমি সর্ব্বদাই মলিনভাবে বিষাদিত চিত্তে বিকৃতমনার ন্যায় অযথা চিন্তায় অযথা স্থানে ভ্রমণ করিয়া দিন দিন ক্ষীণ ও মলিন হইতেছ। সময়ে সময়ে যেন একেবারে বিষাদ-সিন্ধুতে নিমগ্ন হইয়া জগতের সমুদয় আশায় জলাঞ্জলি দিয়া আত্মবিনাশে প্রস্তুত হইতেছ—ইহারই বা কারণ কি? আমি পিতা, আমার নিকট কিছুই গোপন করিও না। মনের কথা অকপটে প্রকাশ কর। যদি অর্থের আবশ্যক হইয়া থাকে, ধনভাণ্ডার কাহার জন্য? যদি রাজসিংহাসনে উপবেশন করিয়া রাজ্যভার স্বহস্তে গ্রহণ করিবার বাসনা হইয়া থাকে—বল, আমি এই মুহূর্তে তোমাকে মহামূল্য রাজবেশে সুসজ্জিত করাইয়া রাজমুকুট তোমার শিরে অর্পণ করাইতেছি—এখনই তোমাকে সিংহাসনে উপবেশন করাইতেছি। আমি স্বচক্ষে তোমাকে রাজকার্য্যে নিয়োজিত দেখিয়া নশ্বর বিশ্ব-সংসার পরিত্যাগ করিতে পারিলে তাহা অপেক্ষা ঐহিকের সুখ আর কি আছে? তুমি আমার একমাত্র পুত্ররত্ন। অধিক আর কি বলিব—তুমি আমার অন্ধের যষ্টি, নয়নের পুত্তলী, মস্তকের অমূল্য মণি, হৃদয়ভাণ্ডারের মহামূল্য রত্ন, জীবনের জীবনী-শক্তি, আশা-তরু অসময়ে মঞ্জুরিত, আশা-মুকুল অসময়ে মুকুলিত, আশা-কুসুম অসময়ে প্রস্ফুটিত। বাছা, সদা-সর্ব্বদাই তোমার মলিন মুখ ও বিমর্ষ ভাব দেখিয়া আমি একেবারে হতাশ হইয়াছি, জীবনের আশা পরিত্যাগ করিয়াছি। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন, মনের কথা অকপটে আমার নিকট প্রকাশ কর।”

উৎস: বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব) (১৮৮৫–১৮৯১) — পাঠটি দুটি স্বাধীন উৎসে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রথম প্রকাশ: ১৮৮৫–১৮৯১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই লেখকের আরও লেখা

উপন্যাসের অংশবিষাদ-সিন্ধু: মহরম পর্ব, সপ্তম প্রবাহ (অংশ)সময় যাইতেছে। যাহা যাইতেছে, তাহা আর ফিরিয়া আসিতেছে না। আজ যে ঘটনা হইল, কাল তাহা দুই দিন হইবে। ক্রমে দিনের পর…বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)পড়ুন →উপন্যাসের অংশবিষাদ-সিন্ধু: মহরম পর্ব, অষ্টম প্রবাহ (অংশ)মাবিয়া পীড়িত; এক্ষণে নিজবলে আর উঠিবার শক্তি নাই। এজিদের মুখ দেখিবেন না প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন। দামেস্করাজ্য যা…বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)পড়ুন →উপন্যাসের অংশবিষাদ-সিন্ধু: মহরম পর্ব, চতুর্থ প্রবাহ (অংশ)পথিক ঊর্ধ্বশ্বাসে চলিতেছেন, বিরাম নাই। মুহূর্তকালের জন্য বিশ্রাম নাই। এজিদ্ গোপনে বলিয়া দিয়াছেন, যখন নিতান্…বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)পড়ুন →উপন্যাসের অংশবিষাদ-সিন্ধু: মহরম পর্ব, একাদশ প্রবাহ (অংশ)মদিনাবাসীরা কিছুদিন এজিদের পত্র লইয়া বিশেষ আলোচনা করিলেন। সর্বসাধারণের অন্তরেই এজিদের পত্রের প্রতি ছত্র, প্র…বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)পড়ুন →উপন্যাসের অংশবিষাদ-সিন্ধু: মহরম পর্ব, প্রথম প্রবাহ (অংশ) — এজিদের উত্তরএজিদ্ করজোড়ে বলিতে লাগিলেন, “পিতঃ! আমার দুঃখ অনন্ত। এ দুঃখের সীমা নাই, উপশমের উপায় নাই। আমি নিরুপায় হইয়াই…বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)পড়ুন →উপন্যাসের অংশবিষাদ-সিন্ধু: মহরম পর্ব, দ্বাদশ প্রবাহ (অংশ)ঋণের শেষ, অগ্নির শেষ, ব্যাধির শেষ, শত্রুর শেষ থাকিলে ভবিষ্যতে মহাবিপদ। পুনরায় তাহা বর্ধিত হইলে আর শেষ করা যা…বিষাদ-সিন্ধু (মহরম পর্ব)পড়ুন →
মীর মশাররফ হোসেন — লেখকের পাতা →