যে শিশু ভূমিষ্ঠ হ’লো আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চীৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের—
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান:
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চ’লে যেতে হবে আমাদের।
চ’লে যাবো—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাবো আমি—
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
ক’রে যাবো আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস॥
Bengali · বাংলা
Related poems
বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি – জীবনানন্দ দাশBengali Classicsজীবনানন্দ দাশ
আবদুল্লাহ্: পঞ্চম পরিচ্ছেদ – কাজী ইমদাদুল হকBengali Classicsকাজী ইমদাদুল হক
আবার আসিব ফিরে – জীবনানন্দ দাশBengali Classicsজীবনানন্দ দাশ
করবী – সত্যেন্দ্রনাথ দত্তBengali Classicsসত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
শরতের প্রতি – সত্যেন্দ্রনাথ দত্তBengali Classicsসত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
একা — “কে গায় ওই?” – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়Bengali Classicsবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়




