উড়িষ্যার অন্তর্গত রাজকণিকায় একজন ভদ্রলোক চাকুরী উপলক্ষে ছিলেন। বাসায় তাঁহার মাতা, দুইজন ভগিনী এবং স্ত্রী ছিলেন। বর্ষার সময়। তাঁহার বাঙ্গলায় চারিজন পাখাটানা কুলি পালাক্রমে সমস্ত দিন ও রাত্রি পাখা টানিত। সাহেব “টুরে” বাহিরে গিয়াছেন; রাত্রিকালে তাঁহার স্ত্রীর কামরায় একজন চাকরাণী শুইয়াছিল। তাঁহার ভগিনীগণ অন্য কামরায় ছিলেন।
সে অঞ্চলে গরমের সময় লোকে বেশী বিছানা ব্যবহার করে না। রাত্রিকালে প্রবল বেগে বৃষ্টি হওয়ায় সাহেবের স্ত্রীর শীত বোধ হইল। তবু তিনি চাকরাণীকে ডাকিয়া পাখা বন্ধ করিতে বলিলেন না। ক্রমে শীত অসহ্য হওয়ায় প্রথমে তিনি বিছানার চাদরখানি গায়ে দিলেন, তাহাতেও শীত না গেলে তিনি বিছানার দরি (শতরঞ্জি) ও সুজনী তুলিয়া গায়ে দিলেন। কিন্তু হতভাগা পাখা-কুলী আরও জোরে জোরে পাখা টানিতে লাগিল। তখন অগত্যা বউ বিবি ঐ দরি চাদর সমস্ত গায়ে জড়াইয়া পালঙ্কের নীচে গিয়া শুইলেন।
পরদিন সকালে একজন চাকরাণী কামরায় ঝাঁটা দিতে আসিয়া পালঙ্কের নীচে সাদা একটা কি দেখিয়া দিল ঝাঁটার বাড়ি-ঝাঁটার চোটে তাড়াতাড়ি বউ বিবি পাশ ফিরিলেন-বেচারী চাকরাণী যেন মরিয়া গেল!
Bengali · বাংলা
Related articles
অবরোধ-বাসিনী: দশ – রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনBengali Classicsরোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
নির্ব্বাণ – কামিনী রায়Bengali Classicsকামিনী রায়
আবদুল্লাহ্: ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ – কাজী ইমদাদুল হকBengali Classicsকাজী ইমদাদুল হক
অবরোধ-বাসিনী: ছয় – রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনBengali Classicsরোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
একা — “কে গায় ওই?” – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়Bengali Classicsবঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
আবদুল্লাহ্: দশম পরিচ্ছেদ – কাজী ইমদাদুল হকBengali Classicsকাজী ইমদাদুল হক





