
Mir Mosharraf Hossain · ১৮৪৭–১৯১১
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়ায় এক জমিদার পরিবারে মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম। ঘরে আরবি-ফারসি, পাঠশালায় বাংলা শিখে কুষ্টিয়া ও কৃষ্ণনগরে পড়েছেন, তবে পড়া শেষ করতে পারেননি। পরে পারিবারিক জমিদারির কাজ ও দেলদুয়ার এস্টেটের দায়িত্ব সামলেছেন।
ছাত্রাবস্থাতেই 'সংবাদ প্রভাকর' ও 'গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা'য় মফস্বল সংবাদদাতা হিসেবে লেখা শুরু। কাঙাল হরিনাথকে তিনি সাহিত্যগুরু মানতেন। 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
উপন্যাস, নাটক, প্রহসন, কবিতা, আত্মজীবনী—সব ধারাতেই লিখেছেন। কারবালার বিষাদময় কাহিনি নিয়ে লেখা 'বিষাদ-সিন্ধু' তাঁর অমর কীর্তি, আর 'জমীদার দর্পণ' নাটকে তুলে ধরেছেন প্রজাদের ওপর জমিদারি অত্যাচার। পদমদীতে তাঁর সমাধি।
উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান লেখকদের মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন পথিকৃৎ। 'বিষাদ-সিন্ধু'র আবেগঘন, অলংকারময় গদ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠকের কাছে প্রিয়, কারবালার শোককে তিনি বাংলা উপন্যাসের ভাষায় এনেছেন। 'জমীদার দর্পণ'-এ সাধারণ প্রজার কষ্ট আর 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'তে সমাজের ভণ্ডামির ব্যঙ্গ—সমাজসচেতন লেখক হিসেবে তাঁকে চেনায়।