অনেক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।
অর্থ: কাজে কর্তা বেশি হলে কাজটাই পণ্ড হয়।
Bengali Proverbs
বাংলার মানুষের মুখে মুখে চলে আসা প্রবাদ আর খনার বচন। পুরোনো ছাপা বইয়ে যেমন আছে, ঠিক তেমনই দেওয়া হলো (পুরোনো বানানসহ); নিচে সহজ অর্থ আর দুটি উৎসের লিংক।
আজকের প্রবাদ
কার্ডে দেখুন ↓অনেক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট।
অর্থ: কাজে কর্তা বেশি হলে কাজটাই পণ্ড হয়।
গুরু মারা বিদ্যা।
অর্থ: যার কাছে শেখা, তার বিরুদ্ধেই সেই বিদ্যা খাটানো।
ঘরে ছুঁচোর কীর্ত্তন। বাহিরে কোঁচার পত্তন।
অর্থ: ভেতরে অভাব, অথচ বাইরে দেখানো বাবুয়ানা।
দয়ার পর ধর্ম্ম নাই, হিংসার পর পাপ নাই।
অর্থ: দয়ার চেয়ে বড় পুণ্য নেই, হিংসার চেয়ে বড় পাপ নেই।
দিন যায় কথা থাকে।
অর্থ: সময় চলে যায়, কিন্তু মানুষের বলা কথা ও কাজ মনে থাকে।
নেড়া মাথায় খোঁচার ভয়।
অর্থ: যার হারানোর কিছু নেই, তারও অকারণ ভয়।
বাড়ীর গাছা, পেটের বাছা।
অর্থ: নিজের হাতে লাগানো গাছ আর নিজের সন্তান — দুটোই সবচেয়ে আপন।
বাঁশ মরে ফুলে, মানুষ মরে বুলে।
অর্থ: বাঁশে ফুল এলে বাঁশ মরে, মানুষ নষ্ট হয় অহংকারের বুলিতে।
মরার উপর খাঁড়ার ঘা।
অর্থ: বিপদে পড়া মানুষের ওপর আরও বিপদ চাপানো।
মাথা নাই তার মাথা ব্যথা।
অর্থ: যার সঙ্গে সম্পর্ক নেই, সেই বেশি দুশ্চিন্তা করে।
যার বিয়ে তার মনে নাই,
পাড়া পড়সীর ঘুম নাই।
অর্থ: যার কাজ সে নিশ্চিন্ত, অথচ অন্যেরা অস্থির।
যার যেমন মন, তার তেমন ধন।
অর্থ: মন যেমন, মানুষ জীবনে পায়ও তেমন।
সবুরে মেওয়া ফলে।
অর্থ: ধৈর্য ধরলে শেষে মিষ্টি ফল মেলে।
সঙ্গদোষে লোহা ভাসে।
অর্থ: খারাপ সঙ্গে পড়লে ভালো মানুষও বদলে যায়।
হাতে পাঁজি মঙ্গলবার।
অর্থ: হাতের কাছে প্রমাণ থাকতেও অন্যকে জিজ্ঞেস করা।
সাঁতার না জানিলে, বাপের পুকুরে ডুবে মরে।
অর্থ: দক্ষতা না থাকলে নিজের চেনা জায়গাতেও বিপদ।
যেমন কুকুর, তেমনি মুগুর।
অর্থ: যেমন দুষ্ট, তেমনই কড়া শাসন দরকার।
বাঘে ছুঁলে আঠার ঘা।
অর্থ: ক্ষমতাবানের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ালে ঝামেলা বহুগুণ।
রাজার কাছে কোটালের দোহাই।
অর্থ: বড়র সামনে ছোট কর্তার নাম নিয়ে লাভ নেই।
নীচ যদি উচ্চভাষে, সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
অর্থ: হীনমনা লোক বড় কথা বললে জ্ঞানী হেসে উড়িয়ে দেন।
চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।
অর্থ: বিপদ চলে যাওয়ার পর বুদ্ধি খোলা — তখন আর লাভ নেই।
জন্ম হউক যথা তথা, কর্ম্ম হউক্ ভাল।
অর্থ: কোথায় জন্ম, তা নয় — কাজই মানুষের আসল পরিচয়।
সাতকাণ্ড রামায়ণ সীতা কার ভার্য্যা।
অর্থ: পুরোটা শুনেও আসল কথাটাই না বোঝা।
বেল পাকিলে কাকের কি।
অর্থ: যা কাজে লাগবে না, তা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই।
বামন হইয়া চাঁদে হাত।
অর্থ: সাধ্যের বাইরের জিনিস পাওয়ার আশা।
গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।
অর্থ: জিনিস হাতে আসার আগেই ভোগের আয়োজন।
লিখিব পড়িব মরিব দুখে।
মৎস্য ধরিব খাইব সুখে॥
অর্থ: পড়াশোনায় কষ্ট, আরামের কাজেই সুখ — ফাঁকিবাজের যুক্তি।
যেমন গুরু, তেমনি চেলা।
টক্ঘোল তার ছেঁদা মালা॥
অর্থ: শিক্ষক যেমন, শিষ্যও হয় তেমন।
যত হাসি তত কান্না। বলে গেছে রামশর্ণ্ণা।
অর্থ: অতিরিক্ত আনন্দের পরে প্রায়ই দুঃখ আসে।
কালী কলম মন, লেখে তিন জন।
অর্থ: কালি, কলম আর মন — তিনে মিলে তবেই লেখা হয়।
লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেল।
অর্থ: কষ্টের লাভটুকু অন্যের ভোগে চলে গেল।
যার শিল তারি নোড়া,
তারি ভাঙ্গে দাঁতের গোড়া।
অর্থ: কারও জিনিস দিয়েই তার ক্ষতি করা।
নিত্য স্বপ্নে বাঘে খায়।
কোন্ দিন কার ভাল যায়॥
অর্থ: সারাক্ষণ ভয়ে থাকলে কোনো দিনই শান্তি মেলে না।
বিড়ালের ভাগ্যে ছিকা ছিঁড়িয়াছে।
অর্থ: হঠাৎ কপাল খুলে অযাচিত সুযোগ পাওয়া।
একে মন্সা, তায় ধূনার গন্ধ।
অর্থ: এমনিতেই রাগী, তার ওপর উসকানি পেলে আর কথা নেই।
ঢেঁকির স্বর্গে গেলেও ধানভানিতে হয়।
অর্থ: স্বভাব জায়গা বদলালেও বদলায় না।
দশের লাঠি একের বোঝা।
অর্থ: সবাই মিলে বইলে যা হালকা, একা বইলে তা ভারী।
যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধ্যা হয়।
অর্থ: যেখানে ভয়, বিপদ ঠিক সেখানেই এসে হাজির হয়।
আপনি বাঁচিলে বাপের নাম।
অর্থ: আগে নিজেকে রক্ষা, তারপর অন্য কিছু।
যার ধন তার ধন নয়, নেপো মারে দই।
অর্থ: মালিক ভোগ করতে পারে না, অন্য কেউ লুটে নেয়।
যত দোষ নন্দ ঘোষ।
অর্থ: সব দোষ একজনের ঘাড়ে চাপানো।
তেলা মাথায় তেল দিতে সবাই পারে।
অর্থ: যার আছে, তাকেই সবাই আরও দেয়।
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা।
অর্থ: এক বিপদ দিয়েই আরেক বিপদ দূর করা।
বিনা মেঘে বজ্রাঘাত।
অর্থ: একেবারে অপ্রত্যাশিত বিপদ।
গাঁয়ে মানে না আপনি মড়ল।
অর্থ: কেউ মানে না, তবু নিজেকে নেতা ভাবা।
ঘুঘু দেখছ, ফাঁদ দেখ নাই।
অর্থ: লোভের জিনিস দেখেছ, পেছনের ফাঁদ দেখোনি।
ভাগের মা গঙ্গা পায় না।
অর্থ: ভাগীদার বেশি হলে কারও দায়িত্ব কেউ নেয় না।
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
অর্থ: মাত্রাছাড়া ভক্তি দেখানো লোকের মতলব সন্দেহজনক।
খনা ডেকে বলে যান।
রোদে ধান ছায়ায় পাণ॥
অর্থ: রোদে ধান ভালো হয়, পান ভালো হয় ছায়ায়।
দাতার নারিকেল বখিলের বাঁশ।
কমে না বাড়ে না বার মাস॥
অর্থ: নারকেল গাছ আর বাঁশঝাড় সারা বছর ঠিক থাকে, ফল দিয়ে যায়।
দিনে রোদ রাতে জল।
তাতে বাড়ে ধানের বল॥
অর্থ: দিনে রোদ আর রাতে বৃষ্টি হলে ধান জোরালো হয়।
শুনরে বাপু চাষার বেটা।
মাটীর মধ্যে বেলে যেটা॥
তাতে যদি বুনিস পটল।
তাতেই তোর আশার সফল॥
অর্থ: বেলে মাটিতে পটল বুনলে ভালো ফলন হয়।
শুন বাপু চাষার বেটা।
বাঁশের ঝাড়ে দিও ধানের চিটা॥
চিটা দিলে বাঁশের গোড়ে।
দুই কুড়া ভূঁই বেড়বে ঝাড়ে॥
অর্থ: বাঁশের গোড়ায় ধানের চিটা দিলে ঝাড় অনেক বাড়ে।
খনা বলে শুন শুন।
শরতের শেষে মূলা বুন॥
অর্থ: শরতের শেষ দিকে মুলো বোনার ঠিক সময়।
যদি না হয় অগ্রাণে বৃষ্টি।
তবে না হয় কাঁঠালের সৃষ্টি॥
অর্থ: অগ্রহায়ণে বৃষ্টি না হলে কাঁঠালের ফলন কম হয়।
যদি বরে আগনে।
রাজা যান মাগনে॥
যদি বরে পৌষে।
কড়ি হয় তুষে॥
অর্থ: অগ্রহায়ণ বা পৌষে বৃষ্টি হলে ফসল নষ্ট হয়, অভাব আসে।
যদি বরে মাঘের শেষ।
ধন্য রাজা পুণ্য দেশ॥
যদি বরে ফাগুনে।
চিনা কাউন দ্বিগুণে॥
অর্থ: মাঘের শেষে বা ফাল্গুনে বৃষ্টি হলে দেশে ফসল ভালো হয়।
খাটে খাটায় লাভের গাঁতি
তার অর্দ্ধেক কাঁধে ছাতি॥
ঘরে বসে পুছে বাত।
তাঁর ভাগ্যে হা ভাত॥
অর্থ: যে নিজে খাটে সে পুরো লাভ পায়; ঘরে বসে থাকলে অভাব।
কিছু পাওয়া গেল না। অন্য শব্দ লিখে দেখুন।