
রূপসী বাংলার কবি
Jibanananda Das · ১৮৯৯–১৯৫৪
জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মেছিলেন। বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক, মা কুসুমকুমারী দাশ নিজেও কবিতা লিখতেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি ইংরেজি সাহিত্য পড়েন এবং জীবনের বড় অংশ কাটে অধ্যাপনায়।
১৯১৯ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয়, আর ১৯২৭ সালে বেরোয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’। এরপর ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’ তাঁকে আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান কণ্ঠে পরিণত করে। গ্রামবাংলার প্রকৃতি, সময়, মৃত্যু আর নিঃসঙ্গতা তাঁর কবিতায় মিশে আছে গভীর চিত্রকল্পে।
১৯৫৪ সালে কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর প্রকাশিত ‘রূপসী বাংলা’ বাংলার মাঠ-নদী-গাছপালার প্রতি তাঁর ভালোবাসার অমর দলিল; দুই বাংলাতেই তিনি আজ সবচেয়ে প্রিয় কবিদের একজন।
রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা কবিতাকে যাঁরা নতুন পথে নিয়ে যান, জীবনানন্দ তাঁদের মধ্যে অগ্রগণ্য। তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার নিসর্গ আর আধুনিক মানুষের ক্লান্তি-নিঃসঙ্গতা একসঙ্গে ধরা দেয়। ‘বনলতা সেন’ ও ‘রূপসী বাংলা’র কবিতা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ দুই দিকেই মানুষের মুখে মুখে ফেরে; পরবর্তী বহু প্রজন্মের কবি তাঁর ভাষা ও চিত্রকল্পে প্রভাবিত।