আগে যদি জানতাম বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে নিজেকে হারিয়ে ফেলব,
তাহলে হয়তো বড় হওয়ার চিন্তা করতাম না।
একসময় ভাবতাম, বড় হলেই স্বাধীন হবো।
এখন বুঝি, বড় হওয়া মানেই নিজের ইচ্ছেগুলোকে একে একে কবর দেওয়া।
বড় হওয়ার পর হারালাম আমার ঘুম,
আমার সুখ-শান্তি,
আর হারালাম আপন কিছু মানুষ।
আর পাওয়ার বেলায় পেলাম শুধু তিরস্কার
আর কয়েক মুঠো দুঃখ।
আগে রাত মানেই ছিল ঘুম,
এখন রাত মানেই হাজারটা না বলা কথার সঙ্গে যুদ্ধ।
শৈশবটা কত সুন্দর ছিল…
তখন দুঃখ ছিল ছোট,
অথচ হাসিটা ছিল অনেক বড়।
আর এখন দুঃখগুলো বড় হয়ে গেছে,
শুধু হাসিটাই কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
কিছু মানুষ বয়সের সঙ্গে বড় হয়,
আর কিছু মানুষ বয়সের সঙ্গে শুধু চুপ হয়ে যায়।
আয়নায় আজও আমাকেই দেখি,
অথচ এই মানুষটাকে আমার নিজের বলে মনে হয় না।
হায় জিন্দেগি…
এই দুঃখ কি শেষ হবে না?
আমি তো আমার মধ্যে বেঁচে নেই বহু বছর ধরে।
কিন্তু কেন?
এর কারণ খুঁজতে গিয়ে পেলাম—
বয়সের দোষ…
যে বয়সে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল,
সে বয়সেই স্বপ্নগুলোর হিসাব দিতে শিখে গেলাম।
সময় আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে,
কিন্তু বিনিময়ে নিয়ে গেছে
আমার সবচেয়ে প্রিয় আমিটাকে।
কি দোষ করেছিলাম বিধাতার কাছে?
তিনি কি চাইলে পারতেন না
আমাকে আমার সেই নিষ্পাপ শৈশবেই থামিয়ে দিতে?
হয়তো তাহলে এত কিছু হারানোর ভয় থাকত না,
এত মানুষকে হারানোর কষ্টও পেতে হতো না।
হায়রে বয়স…
তুই আমাকে বড় করেছিস ঠিকই,
কিন্তু বিনিময়ে আমার ভেতরের ছোট্ট মানুষটাকে
কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছিস।
তোর কাছে আমি সত্যিই দুর্বল…
One Response
ভাই, খুব সুন্দর লেখেছো, দারুণ ।